দ্যা ডেইলি এজুখেইশনে বিজ্ঞাপন দিতে কল করুন

+88 01521 20 70 54 (Call for Ad)

মামুনুর রশীদ রচিত রাঢ়াঙ (The Distant Drum) নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ

আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজনা- ৪০, রাঢ়াঙ (রচনা ও নির্দেশনা- মামুনুর রশীদ) নাটকের শেষদৃশ্য; আলোকচিত্র: আহসান হাবীব বিপু

রাঢ়াঙ (The Distant Drum)

রচনা ও নির্দেশনা- মামুনুর রশীদ

প্রযোজনা: আরণ্যক নাট্যদল 

মামুনুর রশীদ রচিত রাঢ়াঙ (The Distant Drum) নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:

প্রখ্যাত নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ (জন্ম: ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮) রচিত  রাঢ়াঙ (The Distant Drum) নাটকটি সাঁওতালদের জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত আর দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা নিয়ে রচিত। ‘রাঢ়াঙ’ একটি সাঁওতালী শব্দ যার অর্থ দূরাগত মাদলের ধ্বনিতে জেগে ওঠার আহ্বান (দূরাগত মাদলের ধ্বনির সঙ্গে শোষিত সাঁওতালদের জেগে ওঠার আহ্বান)। ভারতীয় উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যারা প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ায় তারা সাঁওতাল। ১৭৮৪ সালে হাজারীবাগ জেলার কালেক্টর ক্লিভল্যান্ডকে হত্যার মাধ্যমে এর সূত্রপাত। তারপর ১৮৫৫ সালে সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। যার পরবর্তী অধ্যায় সর্বভারতীয় প্রতিরোধ ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ। এ অঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমির অধিকারের লড়াইয়ে সাঁওতালদের অবদান একটি কিংবদন্তিসম উপাখ্যান। ভারত বিভক্তির পর ইলা মিত্রের নেতৃত্বে নাচোলের কৃষক আন্দোল-এ সাঁওতালদের ভূমিকা আজও সংগ্রামী কৃষক ও আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একটি আলোকবর্তিকা। 

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের হালচালে মলিন বেশভূষা। নিরীহ মুখাবয়বে যেন রাজ্যের হাহাকার। খেয়ে না খেয়ে সভ্য সমাজের মানুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনোভাবে যেন বেঁচে থাকা। নিজেকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে প্রত্যেক সাঁওতাল প্রায় একপ্রকার যুদ্ধেই লিপ্ত। অধিকার আদায়ে বিদ্রোহ দানা বেঁধে ওঠে প্রান্তিক সাঁওতালদের মাঝে। এটা শুধু নিছক বিদ্রোহ ছিল না। অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে, বেঁচে থাকার জন্য এবং অধিকার আদায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। থানার দারোগা থেকে শুরু করে গ্রামের মাতব্বর, এমনকি অধিকার আদায়ে সচেষ্ট বিদ্রোহী তরুণরাও অস্তিত্ব সংকটে ভোগে মামুনুর রশীদ রচিত রাঢ়াঙ (The Distant Drum)  নাটকে। ২০০০ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের নওগাঁয় আলফ্রেড সরেনের নেতৃত্বে ভূমির জন্য লড়াই ও আলফ্রেড সরেনের আত্মত্যাগ, সাঁওতালদের এই দীর্ঘ সংগ্রামের বিশাল উত্তরাধিকারকে নাট্যপটে তুলে ধরার প্রয়াসই মামুনুর রশীদ রচিত নাটক রাঢ়াঙ (The Distant Drum) ।

রাঢ়াঙ নাটকের কাহিনিপ্রবাহ: 

রাঢ়াঙ অর্থ দূর হতে আগত মাদলের ধ্বনি। মাদলের ধ্বনির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শোষণের স্বীকার হয়ে আসা সাঁওতালদের জেগে ওঠার কাহিনীকেই তুলে ধরে এই নাটক। আত্মপরিচয় নির্মাণ ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ১৮৫৫ সালে সাঁওতালদের সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা হয়। যা পরিচিত সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে। ইংরেজদের শাসন-শোষণ, মহাজন, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ দিনের অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে নিজেদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই ছিল এই আন্দোলনের মূলে। এ অঞ্চলে আদিবাসীদের ভূমির অধিকারের জন্য লড়াইয়ের ইতিহাসে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর অবদান অনস্বীকার্য। নাচোলে ইলা মিত্রের নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলনেও সাঁওতালদের ভূমিকা আজো চির অম্লান হয়ে আছে।

তানোর নামক লোকালয়ে সাঁওতালদের বাস। সেখানে নেই তাঁদের কোন নিজস্ব জমি। বিশ্বম্ভর নামক এক জোতদারের প্রলোভনে সাঁওতালেরা নাচোলের গ্রাম তানোর ছেড়ে নওগাঁর ভীমপুরে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করে। জমি পাওয়ার আশায় তাঁরা ছেড়ে যায় তাদের দীর্ঘদিনের বসতভিটা। কিন্তু ভীমপুরে গিয়েও তাঁরা জমির কাগজ পায় না। আবার সাঁওতালদের দিয়েই ফসল ফলিয়ে একটা বড় অংশ নিয়ে যায় বিশ্বম্ভর। ধীরে ধীরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে সাঁওতালদের মনে। 

অন্যদিকে ভীমপুরে স্থানীয় আরেক জোতদার হাতেম আলী তাঁর এলাকায় নতুন আগন্তুক এই সাঁওতালদের মেনে নিতে পারেন না। সে বিভিন্ন ভাবে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালায়। এমনকি সাঁওতালদের পেছনে পুলিশও লেলিয়ে দেয়। 

এরই মধ্যে বিশ্বম্ভরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর বিশ্বম্ভরের ভাইয়ের ছেলে গদাই হাতেম আলীর সঙ্গে মিলে সাঁওতালদের শোষণের ফন্দি আঁটে। কিন্তু সাঁওতালেরা যখন দেখে যে, হাতেম ও গদাইয়ের লোকজন না জানিয়ে তাঁদের কষ্টে ফলানো ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে, তখন তাঁরা ফেটে পড়ে বিদ্রোহে। 

সাঁওতাল যুবক আলফ্রেড সরেনের নেতৃত্বে হাতেম ও গদাইয়ের সঙ্গে সাঁওতালদের লড়াইয়ের শুরু। কিন্তু সাঁওতালদের সম্বল বলতে কিছু তীর ধনুক। এই সামান্য তীর-ধনুক দিয়ে কি ভাড়া করা গুণ্ডা বাহিনীর সঙ্গে পেরে ওঠে যায়? লড়াইয়ে করুণ পরাজয় ঘটে সাঁওতালদের। নিহত হয় সাঁওতাল নেতা আলফ্রেড সরেন। এমনই এক আখ্যান ব্যাখ্যা করে মামুনুর রশীদ রচিত নাটক রাঢ়াঙ। [তথ্যসূত্র: কৃপাকণা তালুকদার, রাঢ়াঙ: অপরায়ন প্রক্রিয়ায় নির্মিত ক্ষমতা কাঠামো ও আত্মপরিচয়ের রাজনীতি নির্মাণ, থিয়েটার জার্নাল, ৪র্থ সংখ্যা, এপ্রিল ২০২১]

রাঢাঙ নাটকের চরিত্রলিপি:

কথক ১

কথক ২

কথক ৩

শ্যামলী টুডু

*পূণ্য চন্দ্র মারান্ডি

শেফালী রানী সুমতি রানী টুডু

*বিশম্ভর

লুনকু রাম

*পাদ্রী 

রামচাঁদ মুরমু

জানগুরু

*দারোগা/ওসি

*আবু বকর/ সাব ইন্সপেক্টর 

*পুলিশ ১

*পুলিশ ২

*হাতেম আলী

*গদাই

সোনা হেমব্রম

বাবুরাম

দীনেশ সরেন

রবীন সরেন

*দফাদার

*আলফ্রেড সরেন

রাখাল

*ব্যারিস্টর

আকমল

মুহুরী

যুবক

সাঁওতাল নারী

বাঙালী যুবক


সংকলনে:

মো. এনামুল হাসান কাওছার

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 

তথ্যসূত্র: 

১) আরণ্যক নাট্যদল প্রযোজনা- ৪০, রাঢ়াঙ (রচনা ও নির্দেশনা- মামুনুর রশীদ) নাটকের প্রযোজনা ব্রুশিয়ার। 

২) দৈনিক যুগান্তর-  https://www.jugantor.com/todays-paper/second-edition/499964/সাঁওতাল-বিদ্রোহ-নিয়ে-আরণ্যকের-রাঢ়াঙ। 

৩) কৃপাকণা তালুকদার, রাঢ়াঙ: অপরায়ন প্রক্রিয়ায় নির্মিত ক্ষমতা কাঠামো ও আত্মপরিচয়ের রাজনীতি নির্মাণ, থিয়েটার জার্নাল, ৪র্থ সংখ্যা, এপ্রিল ২০২১

[কৃতজ্ঞতা: আফরিন হুদা তোড়া, প্রভাষক, নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১১০০ এবং  কৃপাকণা তালুকদার, প্রভাষক, নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১১০০] 

No comments

Powered by Blogger.