দ্যা ডেইলি এজুখেইশনে বিজ্ঞাপন দিতে কল করুন

+88 01521 20 70 54 (Call for Ad)

সংবিধানের ৭টি তফসিল

 

সংবিধানের ৭টি তফসিল

বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল আছে ৭টি। চাকুরি পরিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তফসিল।

 

পঞ্চম তফসিল

১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ।

[নোট: ৭ই মার্চের ভাষণে দাবী ছিলো-৪টি। এবং ভাষণটি শুরু হয়- ভাইয়েরা আমার… এই শব্দ দিয়ে।

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ২ মিনিটের ‘গ্রেটিজবার্গ এড্রেস-কে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে অভিহিত করা হয়।]

 

ষষ্ঠ তফসিল

        ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা।

[নোট: ইপিআর ও টিএন্ডটি-এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।]

 

সপ্তম তফসিল

        ১০ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

[নোট: স্বাধীনতার ঘোষণ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এক বিষয় নয়। স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অধ্যাপক ইউসুফ আলী*]


[মনে রাখার কৌশল:

৭ মার্চ, ২৬মার্চ, ১০ এপ্রিল তারিখগুলো ঐতিহাসিক এবং পর্যায়ক্রমিক আবার তফসিল ৬, ৭ এবং ৮ -ও পর্যায়ক্রমিক।]

 

তফসিল কী?

তফসিল শব্দের বাংলা অর্থ বিবরণ। সাধারণত তফসিল বলতে পরিচিতি বুঝায়। যেমন- জায়গা জমির দলিলে জায়গার পরিচিতি বুঝাতে তফসিল শব্দ ব্যবহৃত হয়। অন্যভাবে বলা যায়, কোনো বিষয়ে আলোচনার পর সে আলোচনাকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য অতিরিক্ত বিবরণের প্রয়োজন হলে উক্ত অতিরিক্ত আলোচনাকে তফসিল বলে।

 

সংবিধানে তফসিলে বলতে লেখা আছে-

“তফসিল বলতে এই সংবিধানের অধীনে তফসিল।*”

তাহলে মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে,

সংবিধানের তফসিল বলতে কী বোঝায়?

উ: সংবিধানের বিশেষ কোনো অনুচ্ছেদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বর্ণনাকে বোঝায়। অর্থাৎ, সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদের বিস্তারিত বিবরণের জন্য সংবিধানে তফসিল (Schedule) যুক্ত করা হয়।

[নোট: আমাদের সংবিধান মালোয়েশিয়ার সংবিধানের আদলে রচিত হয়।]

 

বাংলাদেশের সংবিধানে কয়টি তফসিল আছে?

উ: বাংলাদেশের সংবিধানে ৭টি তফসিল আছে।

[ নোট: ২০১১ সালের পূর্বে বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিলের সংখ্যা ছিল ৪টি। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন করে ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয় যা উপরে আলোচিত হয়েছে।]


লিখেছেন:

মো. এনামুল হাসান কাওছার,

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 


 আরো বিস্তারিত জানতে নিম্নের তথ্যাদি (Primary Preparation- প্রাইমারি প্রিপারেশন ওয়েবসাইট থেকে) সংযুক্ত করা হলো-

সংবিধানের ৭টি তফসিল নিম্নে আলোচিত হলো:

 

১। প্রথম তফসিল:

অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন (অর্থাৎ, দেশে যে বিধানই থাকুক না কেন, এই তফসিলে বর্ণিত আইনগুলো অন্যান্য বিধান থাকা সত্ত্বেও কার্যকর হবে। এই তফসিলে সংবিধানের ৪৭ নং অনুচ্ছেদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে)।

 

২। দ্বিতীয় তফসিল:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধানের চতুর্থ সংশোধন আইন, ১৯৭৫ এর ৩০ নং ধারাবলে দ্বিতীয় তফসিল বিলুপ্ত করা হয় (অর্থাৎ, দ্বিতীয় তফসিল এখন আর কার্যকর নেই)।

 

৩। তৃতীয় তফসিল:

শপথ ও ঘোষণা। (অর্থাৎ সংবিধানিক বিভিন্ন পদে কে কীভাবে শপথ নিবে, কে কাকে শপথ পড়াবেন এর বিধান বর্ণিত আছে। এই তফসিলে সংবিধানের ১৪৮ নং অনুচ্ছেদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে)

 

৪। চতুর্থ তফসিল:

ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি

(অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং এই সময়ের মাঝে বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও কার্যকর করার আগ পর্যন্ত সময়কালকে বাংলাদেশের সংবিধানে ক্রান্তিকাল বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাই এই ক্রান্তিকালীন সময়ে বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত ও গৃহীত এবং বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার কর্তৃক প্রণীত ও গৃহীত আইন ও বিধানের বৈধ্যতা প্রদান করা হয়েছে। চতুর্থ তফসিলের মাধ্যমে সংবিধানের ১৫০(১) নং অনুচ্ছেদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে)

 

৫। পঞ্চম তফসিল:

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।

(এই তফসিলে সংবিধানের ১৫০(২) নং অনুচ্ছেদের বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে)

 

৬। ষষ্ঠ তফসিল:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাত শেষে অর্থাৎ, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।

(এই তফসিলে সংবিধানের ১৫০(২) নং অনুচ্ছেদের বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে)

 

৭। সপ্তম তফসিল:

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

(এই তফসিলে সংবিধানের ১৫০(২) নং অনুচ্ছেদের বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে)

(সংবিধানের শেষের ৩টি তফসিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই তফসিলগুলো তারিখের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মনে রাখা যায়।

যেমন- পঞ্চম তফসিলে ৭-ই মার্চের ভাষণ,

ষষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং

সপ্তম তফসিলে ১০ এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। তার মানে, বঙ্গবন্ধু আগে ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়েছেন, তারপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং এরপর ১০ এপ্রিলে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। এখানে আরো লক্ষণীয় যে, শেষের এই ৩টি তফসিলে কেবল সংবিধানের ১৫০(২) নং অনুচ্ছেদের বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে এবং এগুলো কেবল মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত। আরো খেয়াল করুন- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এর উল্লেখ আছে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ এর উল্লেখ আছে সংবিধানের সপ্তম তফসিলে। একটি হলো স্বাধীনতার ঘোষণা, অন্যটি হলো ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’।)

No comments

Powered by Blogger.