দ্যা ডেইলি এজুখেইশনে বিজ্ঞাপন দিতে কল করুন

+88 01521 20 70 54 (Call for Ad)

আঁখিজল কাব্যগ্রন্থ | মনোয়ারা কামাল | উৎসর্গ - মুহাম্মদ আখতার কামাল

আঁখিজল কাব্যগ্রন্থ- মনোয়ারা কামাল

আঁখিজল

                                                    মনোয়ারা কামাল

উৎসর্গ

মুহাম্মদ আখতার কামাল

প্রচ্ছদ

মো. এনামুল হাসান কাওছার 

সম্পাদনা

সাদিয়া আখতার

(১)

স্বপ্ন

                   ৩০.০৭.১৯৮৪

 

আমার জীবনটা যদি রাতের আকাশের চাঁদের মতো হতো

চোখভরা স্বপ্ন আমার হাসিতে উছলে যেতো

আহা সে সুখের স্বপ্ন তো দেখা হলো না।

স্বপ্নের মতো দিবা রজনী

               অতীতের পথে গেলো

হায়রে এমন করে জীবন যে মোর ফুরিয়ে এলো

আহা জীবনেতো কিছুই করা হলো না।

সুখের কামনায় কত

                 রঙিন স্বপ্ন দেখি

মনের খাতায় কত

                       সুন্দর ছবি আঁকি

কিন্তু কিছুই তো হলো না আমার জীবনে

                                   সবই কামনা বাসনা

শূন্য হয়ে ভেসে যায় গগণে।


(২)

ফিরে যেওনা

                        ০২.০৮.১৯৮৪

 

তুমি আসবে বলে ওগো

চেয়ে রয়েছি দূর পথপানে

জেগে রয়েছি সারা যামিনী

ঘুম আসেনা মোর নয়নে

যদি তুমি এসে থাকো ওগো

 ফিরে যেওনা অভিমানে।

অন্ধকার নিঝুম রাতে

একা দাঁড়ায়ে বাতায়ন পাশে চেয়ে রই দূর গগণে

যেথা দুটি তারা হাসে

মনে হয় মোরা দুজনা ভেসে যাই দূরে বহুদূরে।

আমার মনের মাঝে তোমার কথার স্মৃতি

দোলা দিয়ে যায় বিরহেরও গীতি।

আমি তো পারি না ওগো সে ব্যথা সইতে

তোমার কথার মালা সাজিয়ে আমি

ভরে দেবো গানে গানে

যদি গো তুমি এসে থাকো

ফিরে যেওনা অভিমানে।

 

(৩)

ফিরে এসো

                   ২.২.১৯৮৪

 

আহা কত ভালো লাগে এই সুন্দর প্রভাতে

পাখির গানে ভ্রমরেরও গুঞ্জনে ফুলের সুরভীতে

মন আমার ছুটে যায় অজানাতে।

এ মুক্ত ভোরের আলোকে

তোমায় খুঁজে বেড়াই

ওগো দাও না সাড়া

তুমি আজ কোথায়

এসো ওগো ফিরে এসো

এ প্রভাতের মিষ্ট হাওয়ায়।

বসন্তের কোকিল মধুর কন্ঠে

মন জুড়ানো গান গেয়ে যায়

জানি না তুমি এমন করে কতদিন কাঁদাবে আমায়

ওগো দাও না সাড়া

তুমি আজ কোথায়

কত কুসুম করে আছে সবুজ ঘাসেতে

অভিমান করো ফিরে এসো

ওগো আমার পাশেতে

আহা কত ভালো লাগে এ সুন্দর প্রভাতে।

 

(৪)

 

ওগো প্রিয়তম, ওগো প্রিয়তম

দেরি করো না আর আসিতে

এ নব বাসর কুঞ্জে।

সোহাগ জড়ানো ফুল হয়ে তুমি

হাসিতে আমার হৃদয় কুঞ্জে।

এ আনন্দের রজনী বসে আছি আজি

কত স্বপ্ন নিয়ে

মিলনের মালা জড়াবে এ মধুলগ্নে

তোমায় আমায় দিয়ে

আহা কত আনন্দ কত স্বপ্ন বয়ে যাবে

তোমার আমার মাঝে

মৃদু কথা মৃদু হাসি তোমারি পরশে

মনের গহীনে লুকাবে লাজে

বাসর কুজে রঙিন স্বপ্নে রয়েছি তোমারই বধূসাজে।

ফুলের সুবাস ছড়ায়ে জীবনের স্বপ্ন-বাসনা নিয়ে

তোমারি আশায়

বাসর কুঞ্জের মনের আলো যেন নেভে না

চিরদিন তোমারি ভালোবাসায়।

 

(৫)

 

এ বাদলা দিনে কেঁদে যায় মোর মন

ওগো তুমি নেই, তুমি নেই

হৃদয় ঘিরে শুধু

এ গভীর বেদন।

তোমারি বিরহে ছিঁড়ে যায়

হৃদয় ছিঁড়ে যায়।

ওগো প্রিয় ওগো প্রিয়

আঁখির নদীতে বেদনার অশ্রু বন্যা বয়ে যায়।

তোমারই স্মৃতি সাগরে

তরঙ্গের মতো

দোলা দিয়ে যায়, দোলা দিয়ে যায়

বিরহের বাঁধ তো

আর রাখিতে পারি না হায়

কথার স্মৃতি ব্যথার স্মৃতি

সাগরের জলে মিশে যায়

 মিশে যায়।

 

(৬)

 

এই বাংলার নদীর তীরে

সকাল সাঁঝে কত পাখি

গান করে ঘুরে ফিরে

এই বাংলার নদীর তীরে।

ফুলের সুবাস পাখির কাকলি

নদীর কলতান

আহা কত ভালো লাগে

গেয়ে যেতে মোর জীবনের গান।

নদীর তটেতে আমি একা

শয্যা পেতে রাখি

নিঝুম মনে জীবনের স্বপ্নময় ছবি আঁকি।

অবাক নয়নে চেয়ে রয় মোর পানে

দুটি সাঁঝের পাখি।

জীবনের হাসি কান্না কত সুখস্বপ্ন

নিত্য করে যাই, নিত্য করে যাই

ফুলের সুবাসে ভ্রমরের গুঞ্জনে

পাখিরা যে মধুর কন্ঠে গান গায়

আমার বাংলা নদীর তীরে

 আমি নিজেকে ভুলে যাই।

 

(৭)

 

এ জীবনে এসেছিলাম দুঃখ পেতে নয়

সুখ পাবো বলে

তবে কেন সুখ পেলাম না।।

সুখেরই আশায় জীবন নদীর

পথে যেতে যেতে

সুখ যে আর পাওয়া গেলো না।।

আমি দুঃখের মাঝে হারিয়ে গেলাম

সুখের পথ খুঁজে পেলাম না

জীবন পথে চলেছি কত সুখস্বপ্ন নিয়ে,

পাইনি সুখ, দিয়েছি সান্ত্বনা হৃদয়ে

আঁখি নদীর অশ্রু দিয়ে

মোর জীবনের দিগন্তগুলো মিশে যায়

সাগরের জলে

মন জুড়ে ব্যথা রইলো শুধু

জীবনে সুখ পাইনি বলে।।

১৬.০৯.১৯৮

(৮)

 

যাবার বেলায় তুমি বলেছিলে

বলেছিলে তুমি যদি সহিতে না পারো

ভুলে যেও, ভুলে যেও, ভুলে যেও।।

বলো ওগো তোমায় ভুলি কেমনে

বিরহ কাঁটার দহন বাজে প্রাণে

বলো ওগো তোমায় ভুলি কেমনে।

তুমি মোর জীবনের বসন্ত

তুমি মোর বসন্তের ফুল

হারিয়ে তোমায় কোন সুদূরে

 হয়েছি ব্যাকুল।

আজো রয়েছি বসে

         পথপানে দৃষ্টি মেলে

নয়নের জল ফেলে

হায় তুমি আজ কোথায় গেলে।।

 

(১০)

 

যে জন ছিলো মোর বাসর ঘরের স্বপ্ন

হায় সে আজ হারালো কোন অন্ধকারে

মনের কামনা বাসনা ফুল করে

 সাজিয়েছিলাম বাসর ঘর

হৃদয়ের বন্দী ঘরে যে খুলেছিল তালা

সে যে আজ হলো পর।

আহা শূন্য হয়ে রইলো আমার

সাজানো বাসর ঘর।

বাতায়ন পাশে দাঁড়ায়ে থাকি ভাবনায়

শূন্য হৃদয় আমার হাহাকার হয়ে যায়

বেদনার অশ্রু ঝরে আঁখির পাতায় পাতায়

হায় আমার সাজানো বাসর ঘর

আজ বড় অসহায়।

আহা শূন্য হয়ে রইলো আমার

সাজানো বাসর ঘর

হৃদয়ের বন্দী ঘরে যে খুলেছিল তালা

সে যে আজ হলো পর।


(১১)

 

ফুল হয়ে যদি ছল করে এসে থাকো

ভুল করে যেওনা

ঐ দূর বনে নদীর তীরে

পাখি হয়ে গান গেওনা।

যদি আমায় ভালোবেসে থাকো

এসো মোর হৃদয় দুয়ার খোলা।

 

(১২)

 

যা এতদিন হয়নি বলা

প্রাণে প্রাণে জাগে কত নতুনের দোলা।

তোমার হৃদয়ে যদি মোর স্মৃতি এঁকে রাখো

তবে এত ছল কেন

এসো মোর হৃদয় সাগরের পাড়ে

চাঁদ হয়ে আকাশে হাসির ঝিলিক দিওনা

তারা হয়ে গগণের মোর নয়ন কেড়ে নিওনা

যদি এসে থাকো

দূরে সরে যেওনা

ছল করে ভ্রমর হয়ে

গুনগুন করে গান গেওনা।

 

(১৩)

 

ফালগুনের মধুর রাতে স্বপ্নে দেখি যে

কে আমায় ডাকে মিষ্টি নামে

ঘুম ভেঙে যায় ঘুম ভেঙে যায়

মনে হয় সে যেন এসেছে

আমার হারানো পথিক

আমার দুয়ারে এসেছে।।

বুক দুরু দুরু করে

আঁখি দুটো ছলছল করে

কেউ তো নেই শিয়রে আমার

আমি যে শুনেছি তার মধুর নামের ডাক

আমি যে পেলাম স্বপ্নের মাঝে

তার মধুর সোহাগ।।

হায় হায় ঘুম ভেঙে যায়

বাতায়ন পাশে দাঁড়ায়ে চাঁদেরে শুধায়

সে কি আসিবেনা আর

হৃদয়ের মাঝে করে হাহাকার

কেন এমন জীবন আমার।


(১৪)

 

যখন আমি থাকবোনা তখন তুমি আসবে

ব্যথার ভারে বুকটা তোমার নয়ন জলে ভাসবে

আমার হয়ে চাঁদটা তখন

নীল আকাশে হাসবে।

ফুল বাগানে একলা যখন আমার কথা ভাববে

করুণ সুরে রাতের পাখি ছোট্ট নীড়ে কাঁদবে।

অন্ধকারে যখন তুমি

চিনবে না মোর সমাধি

আকুল হয়ে করুণ সুরে কাঁদবে খাঁচার পাখিটি

ভুলতে গিয়ে অতীত স্মৃতি কাঁদবে তোমার প্রাণটি।

যখন আমি থাকবোনা থাকবে আমার গান

ব্যথার সুরে সবার প্রাণে জাগবে অভিমান।

বলবে সবাই কোন সে কবি

কোন পথে সে হারালো

অতীত দিনের ব্যথার আলো

সবার মনে জ্বালালো।

অন্ধকারের ***


(১৫)

 

কেন আমার দুচোখে আসে এত জল

যতই ভাবি ততই যেন

হৃদয়ের মাঝে শুনা যায়

ঐ নদীর কলকল।

যত দূর দেখা যায় চেয়ে থাকি

জানি না মনে মনে কার ছবি আঁকি

কেঁদে যায় কেঁদে যায় গভীর বেদনায়

আমার অবুঝ দুটি আঁখি।

যে ছিলো মোর হৃদয়েরও ফুল

সে আজ স্বপ্নের অগোচর হয়ে

হলো কার খোঁপার এলোচুল।

বাসন্তী সমীরণে কার কথার সুর যেন

করুণ কান্নারও সুরে মোর হৃদয়েরও মাঝে

অলকার কিন্নর ধ্বনির মতো

মোর কানে বাজে।।


(১৬)

 

তোমায় পরাবো বলে মনের সুরভী দিয়ে

গেঁথেছি সোহাগেরও মালা

হায় তুমি কেন এলে না।।

হৃদয় মোর বেদনাতে কেঁদে যায়

কে বুঝবে এ বিরহ জ্বালা

হায় তুমি কেন এলে না। 

তোমারই স্মরণে কত কাঁটা বিধে

সযতনে তুলেছি ফুল

হায় তুমি কেন এলে না। 

কত মধুমাখা স্বপ্ন নিয়ে

গেঁথেছি এ মালা

দু হাতে কন্ঠ জড়ায়ে তোমার

মুছাবো বলে মোর হৃদয় জালা

হায় তুমি কেন এলে না। 

কান্নারও সুরে হৃদয় জুড়ে

অভিমানে করে ব্যাকুল।


(১৭)

 

স্বপ্নের মতো দিনগুলো মোর

ভেসে যায় ভেসে যায় দূর আকাশে

মন চায় মোর

হারানো দিনের মালা করে

ছড়িয়ে দিতে বাতাসে।

আমি তো জানিনা সে মালা সাজাতে।

আহা কত জ্যোৎস্না রাতের

 চাঁদের হাসি তারায় মেলা

উঁকি দিয়ে যায় মোর মনে

কত স্বপ্নমাখা খেলা।

আমি তো পারিনা সে কথা ভুলিতে।

স্বপ্নের মতো দিনগুলো

কত মধুর মায়া-মমতায় ভরা

মনে হয় মোর যেন

হেমন্তের শিউলি ঝরা।

আমি তো পারিনা সে ছবি আঁকিতে।

আহা কত কথা কত স্বপ্ন কত বেদনার

স্মৃতি

মনের মাঝে নীরব হয়ে গেয়ে যায় করুণ গীতি

আমি তো পারিনা সে স্মৃতি রাখিতে।।

 

(১৮)

 

আমি যে আজ হারিয়ে গেলাম অনেক অনেক দূরে

কেউ তো নেই আমার পাশে আমারই বাহুডোরে

আমি খুঁজি আর উদাস মনে ঘুরে।

আহা জীবন যে আমার

এমন করে হারিয়ে যায়

জানিনা আমার পথের সাথী কেউ আছে কি নাই

আমি যে তারে খুঁজে না পাই।

হৃদয়ের মালা যার গলে দিয়েছি পরায়ে

শূন্য মনে একা একা খুঁজেছি তারে হারায়ে

জানিনা সে কোন নিরালায় রয়েছে দাঁড়ায়ে।।

জানিনা সে আজ কোথায় কোন সুদূরে

তারি কথা স্মরণে নয়নের কোণে

বেদনার অশ্রু ঝরে

আহা বিরহব্যথা বুকে গেঁথে

রইবো কেমন করে।

জানিনা সে আজ কোন সাগরের পাড়ে

হৃদয় আমার হাতছানিতে তারে ডাকে বারেবারে

আমি পাইনি, পাইনি খুঁজে তারে।


(১৯)


মরণের দিন তো মোর ঘনিয়ে এসেছে

ও পৃথিবী মায়া দিয়ে আর কতদিন রাখবে ঘিরে।

দাও এবার বিদায়

এ সন্ধ্যার নিঝুম ছায়ায়

মায়া দিয়ে আর তো রাখা যাবে না

জীবনের দিন তো ফুরিয়ে এসেছে।

ও পৃথিবী তোমার মায়ায়

জীবন কেটেছে সুখের নীড়ে

আঁখিজল আর রাখিতে পারি না

মরণের পথ হতে আর তো যেতে পারিনা ফিরে

মরণ যে আমায় রয়েছে ঘিরে

ও পৃথিবী মায়া দিয়ে আর আমায় রাখা হবে না।


(২০)

 

জীবনে যদি ওগো তুমি ফিরে না আসো

রাতের আকাশে তারা হয়ে শুধু একবার হাসো

আমার মনের বাসনা আমি পূর্ণ করবো

তা হবে মোর জীবনের পরম পাওয়া।।

জ্যোৎস্না রাতের দক্ষিণা মলয় হয়ে

পুষ্পকুঞ্জে এসো

রজনীগন্ধার পাপড়ির সাথে

জড়ায়ে একবার হেসো।

বাতায়ন খুলে আমি তোমায় চেয়ে দেখবো।

তা হবে মোর জীবনের পরম চাওয়া।।

রাতের শেষে গানের পাখির কন্ঠে কন্ঠ মিলায়ে

গেয়ে যেয়ো ওগো তুমি মোর জীবনের গান।

দূর থেকে আমি আঁখিজল ফেলে

দেবো তোমায় সে প্রতিদান।

তা কি হবে না ওগো তোমায় জীবনে পরম পাওয়া।

 

(২১)

পল্লীর মেয়ে

                      ২৫-৭-১৯৮৪

 

সবুজ সবুজ গাছ গাছালি পাহাড়ি পথ বেয়ে

লেখাপড়া করতে চলি পল্লীর আদুরে মেয়ে।

দীঘির পাড়ে দেখা যায় ওই মোদের পাঠশালা

রোজ আমি পড়তে যাই করি না অবহেলা।

রাখাল ছেলেরা ঘুরে বেড়ায় পিয়াল তেতুঁল বনে

চলার পথে চেয়ে দেখি উদাস দুই নয়নে।

ধানের ক্ষেতে ঢেউ নেচে যায় মৌসুমি সমীরণে

হাসির ছোঁয়া ছড়িয়ে আছে পল্লী বধূর মনে।

সারা মাঠে রঙ লেগেছে সোনার আমন ধানে

অপূর্ব ঝংকারে পল্লী আমার

ভরে যায় পাখির কলতানে।

কৃষক ভাই মধুর সুরে গান গেয়ে যায়

সবুজ ক্ষেতের মাঠে

পল্লী বধূ ঘোমটা টেনে জল তুলে

ঐ নদীর ঘাটে।


(২২)

 

জীবনের স্মৃতি পথে

                           ২২-৭-১৯৮৪

 

যবে আমি বিদায় নিবো এই ধরণী হতে

রবে না কিছুই আর মোর জীবনের স্মৃতি পথে

আহা কেন এলাম এই পৃথিবীতে।

স্বপ্নের মতো জীবনের মায়া ছেড়ে

মন তো আমার যেতে চায় না মরণের পাড়ে

আহা কেমন করে রইবো আমি চিরদিন কবরে।

জীবনের মায়া মমতা প্রেম প্রীতি

সবই ভুলে যেতে হবে স্মৃতি

গাইতে হবে আমায় মরণেরও গীতি।

কেউ তো মরণের পাড়ে যেতে চায় না

তবুও কেন যেতে হয় একি বিধির ছলনা

হায় একি বিধির ছলনা।

যবে আমি বিদায় নিবো এই ধরণী হতে

রবে না কিছুই মোর সমাধির পরে

আহা কেন এলাম এই পৃথিবীতে।


(২৩)

 

আমাকে তুমি আশা দিয়ে কেন

সাগর জলে ভাসালে

ব্যথাভরা মনে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে

কেন হাসালে।

আমি তো আর তোমার জ্বালাতন

সইতে পারি না

বুক ভরা ব্যথা, চোখ ভরা জল

আর তো রাখিতে পারি না।

ওগো আমায় আর দিও না দিও না যন্ত্রণা।

তোমারই আশায় আশায়

 বসন্তের ফুল ঝরে গেলো

জীবন প্রদীপ মোর

নিভু নিভু হয়ে এলো।


(২২)

পল্লীর মায়া

 

পল্লী তোমার ঝোপের মাঝে

নিত্যনতুন সকাল সাঝে

লুকিয়ে আছে অতীত দিনের

দুঃখীজনের মনের ব্যথা।

তোমার বুকে ছড়িয়ে আছে

ব্যথাময়ীর কথার মালা

তোমার মায়ার পরশ পেয়ে

ভুলে যেত হৃদয় জ্বালা।

তোমার মায়াময় রূপ দেখে

প্রভাতী সমীরণে ফুটিত যবে ফুল

কৃষাণ বধূর গোপন কথা

হৃদয়ের মাঝে করিত বেয়াকুল।

পল্লী তোমার সবুজ পল্লবে

রয়েছে খোদার অমোঘ দান

ঘুম ভেঙে যায় তোমার সোহাগে

শুনি ভোরের মধুর আযান।

রাতের স্বপনে তোমার ছায়া

চির উজ্জ্বল রবে তোমার মায়া।


(২৩)

তুমি যে এমন করে

 সরে যাবে দূরে

সে কথা তো কোনো দিন জানালে না

ওগো আমার জীবন সাধনা।

কি অপরাধ করেছি,

কি ব্যথা দিয়েছি

তোমার মনে

যাবার বেলায় সে কথা তো জানালে না

ওগো আমার জীবন সাধনা।

আমার মনের ব্যথা কালো মেঘ হয়ে

ভেসেছে গগণে

বিরহ বেদনায় কালিমা পড়েছে

আঁখির দু’কোণে।

ওগো আমাকে দিওনা আর যাতনা

ওগো আমার কথাটুকু রাখো না।

                               ১-২-১৯৮২


 

(২৪)

কৃষাণ বধূর মেয়ে

                   ১৫-৭-১৯৮৪

 

আমি পল্লী মায়ের কৃষাণ বধূর মেয়ে

রোজ প্রভাতে জল আনি ঐ নদীর ঘাটে গিয়ে।

নদীর ধারে নানান ফুলের বন

তারি মাঝে শুনি আমি এক সুমধুর গুঞ্জন।

ঝরা কুসুম শয্যা হয়ে ছড়িয়ে থাকে পথের পারে

কৃষাণ ছেলে লাঙল কাঁধে ছুটে চলে তারি ধারে।

রঙিন কিরণ শিশির ভরা ধানের শীষে চিকচিকায়

রোজ প্রভাতে তা দেখে মোর চোখ জুড়ায়।

আমি পল্লী মায়ের কৃষাণ বধূর মেয়ে

রোজ প্রভাতে জল আনি ঐ নদীর ঘাটে গিয়ে।

 

-সমাপ্ত-

No comments

Powered by Blogger.